top of page

তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’: নতুন নাম-প্রতীক কী, সুপ্রিম কোর্টে এখন কী হবে?

Sep 20
4 min read

তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক - নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন পরিস্থিতি। দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবির মধ্যে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং সংরক্ষিত ‘Flowers & Grass’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করেছে। এরপর দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল - জোড়াফুল প্রতীক স্থায়ীভাবে কোনও পক্ষ হারিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ব্যবস্থা অন্তর্বর্তী; মূল name-symbol dispute-এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও বাকি।


১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে নির্বাচন কমিশন


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরনতুন নাম:

Mamata All India Trinamool Congress

নতুন প্রতীক: Football Player


প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির

নতুন নাম: Democratic Trinamool Congress

নতুন প্রতীক: Envelope / খাম

৬ অক্টোবর ২০২৬নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন


Supreme Courtমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় EC-র অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।




নির্বাচন কমিশন ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?


১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকেই ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত ‘Flowers & Grass’ বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করা থেকে আপাতত বিরত রাখে।

কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূলের মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী নিজেদের মূল দল হিসেবে দাবি করছে। কমিশনের নির্দেশে একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যটির নেতৃত্বে অরূপ রায়ের কথা বলা হয়েছে। এই বিরোধের substantive determination প্রয়োজন Election Symbols (Reservation and Allotment) Order, 1968-এর Para 15 অনুযায়ী।


কিন্তু সামনে উপনির্বাচন থাকায় চূড়ান্ত শুনানি শেষ করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই বলে কমিশন জানিয়েছে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। সেই কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দুই গোষ্ঠীকে সমান অবস্থানে রাখার যুক্তিতে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


দুই শিবির এখন কোন নাম ও প্রতীক পেল?


EC-র প্রথম নির্দেশের পর দুই পক্ষকে বিকল্প নাম এবং free symbol-এর পছন্দ জমা দিতে বলা হয়েছিল।

১৮ সেপ্টেম্বর কমিশন দুই শিবিরের জন্য আলাদা অস্থায়ী পরিচয় অনুমোদন করে।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী: Mamata All India Trinamool Congress

প্রতীক - Football Player


প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী:Democratic Trinamool Congress

প্রতীক - Envelope


এই নাম ও প্রতীক বর্তমান উপনির্বাচনী পরিস্থিতির জন্য একটি temporary arrangement।

এগুলি মূল তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুলের মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।


Para 15 কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?


রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভাজনের পরে একই দলের নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের উপর একাধিক গোষ্ঠী দাবি জানালে Election Symbols (Reservation and Allotment) Order, 1968-এর Para 15 প্রাসঙ্গিক হয়।

এই ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনা করে বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারে।


বর্তমান তৃণমূল বিরোধের ক্ষেত্রেও কমিশন জানিয়েছে যে বিষয়টির substantive determination প্রয়োজন।

অর্থাৎ, ১৭ সেপ্টেম্বরের নির্দেশটি সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।



তৃণমূল জোড়াফুল প্রতীক কি কোনও পক্ষ স্থায়ীভাবে হারাল?

না, এখনই তা বলা যাবে না।


এটি এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ distinction।

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান freeze একটি interim arrangement। কমিশন এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি যে ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Flowers & Grass’ প্রতীক কোন গোষ্ঠী ব্যবহার করতে পারবে।


সহজভাবে বললে:

Freeze ≠ Permanent cancellation

এবং

Temporary symbol ≠ জোড়াফুলের অধিকার স্থায়ীভাবে হারানো


চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে EC-র Para 15 proceedings এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের উপর।



মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সুপ্রিম কোর্টে গেলেন?


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তাঁর আবেদনে Election Commission এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে respondent করা হয়েছে বলে Indian Express জানিয়েছে।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর পক্ষের আইনি ও রাজনৈতিক বক্তব্য তাঁর বা তাঁর শিবিরের দাবি; সেগুলিকে আদালতের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না।


অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির EC-র অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মূল নাম ও প্রতীক পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছে। এটিও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অবস্থান, কমিশনের final determination নয়।



সুপ্রিম কোর্টে এখন কী হতে পারে?


২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনটি ২১ সেপ্টেম্বর Chief Justice of India-র নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে urgent listing-এর জন্য mention করা হতে পারে।


এখানে “mention করা হতে পারে” কথাটি গুরুত্বপূর্ণ।


এর অর্থ এই নয় যে ২১ সেপ্টেম্বরেই মূল বিরোধের চূড়ান্ত রায় হয়ে যাবে।


প্রথমে আদালত মামলাটি কখন এবং কীভাবে শুনবে, অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ প্রয়োজন কি না—এসব প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।


তাই এই মুহূর্তে

‘জোড়াফুল ফিরে আসছে’

অথবা

‘জোড়াফুল আর ফিরবে না’

কোনওটিকেই প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বলা ঠিক হবে না।




উপনির্বাচনে এর প্রভাব কী?

বর্তমান EC order বহাল থাকলে দুই গোষ্ঠী আসন্ন উপনির্বাচনে মূল AITC নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।


নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন নির্ধারিত হয়েছে ৬ অক্টোবর।


তাই Supreme Court proceedings-এর সময় গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচনের আগে আদালত কোনও নতুন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি আবার পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যথায় EC-র বর্তমান arrangement-ই প্রাসঙ্গিক থাকবে, যতক্ষণ না সেটি পরিবর্তিত হয়।



জোড়াফুল প্রতীক এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?


নির্বাচনী প্রতীক শুধু EVM-এর একটি graphic নয়।


দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে একটি প্রতীক রাজনৈতিক দলের visual identity এবং voter recognition-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।


তৃণমূলের ‘Flowers & Grass’ বা জোড়াফুল প্রতীক ১৯৯৮ সালে দল গঠনের সময় থেকে তার নির্বাচনী পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।


ফলে পরিচিত প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া campaign communication এবং voter recognition-এর ক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন।


তবে সেই পরিবর্তনের নির্বাচনী প্রভাব কতটা হবে, তা এখনই নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।




এবার কী কী নজরে রাখতে হবে?


এই গল্পের পরবর্তী পর্যায়ে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


প্রথমত, Supreme Court। ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি urgent listing-এর জন্য mention করা হলে আদালত কী অবস্থান নেয় তা দেখতে হবে।


দ্বিতীয়ত, Election Commission-এর Para 15 proceeding। এখানেই মূল party identity নিয়ে substantive determination হওয়ার কথা।


তৃতীয়ত, ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচন। তার আগে আদালত বা কমিশনের নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।



তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল নিয়ে এখন অবস্থান কী?


এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভুলভাবে পরিস্থিতি বলা যায় এভাবে:


মূল All India Trinamool Congress নাম এবং Flowers & Grass প্রতীক সাময়িকভাবে frozen।

দুই গোষ্ঠীকে আলাদা temporary নাম ও symbol দেওয়া হয়েছে।


Election Commission এখনও Para 15-এর অধীনে মূল বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেনি।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় EC-র interim order-কে Supreme Court-এ challenge করেছেন।


ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে “তৃণমূল জোড়াফুল প্রতীক হারাল” বলে বর্ণনা করা বিভ্রান্তিকর হবে। সঠিক অবস্থান হল প্রতীকটি আপাতত frozen এবং তার চূড়ান্ত অধিকার নিয়ে বিরোধ এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।



শেষ কথা


তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিরোধ এখন একই সঙ্গে নির্বাচনী, সাংগঠনিক এবং আইনি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।


নির্বাচন কমিশন আসন্ন উপনির্বাচনের আগে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করেছে। দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হলেও সেটি মূল দলের পরিচয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়।


UPDATED+ Editorial Note:

তৃণমূলের নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি এবং বিষয়টি আদালতেও পৌঁছেছে। রাজনৈতিক নেতা ও দুই গোষ্ঠীর বক্তব্যকে তাঁদের নিজস্ব দাবি বা অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। UPDATED+ নির্বাচন কমিশন ও আদালতের পরবর্তী যাচাইযোগ্য নির্দেশ অনুযায়ী এই প্রতিবেদন আপডেট করবে।


World  

India

Technology 

Middle East

Shopping & Buying Guides

UPDATED+বাংলা

Shop Now

প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

শপিং ডিল

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান

bottom of page