কন্যাশ্রী প্রকল্প ২০২৬: K1 ও K2-তে কারা টাকা পাবেন? যোগ্যতা, আবেদন ও নিয়ম জানুন
পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া এবং অল্প বয়সে বিয়ে রোধ করার লক্ষ্যে কন্যাশ্রী চালু করেছিল রাজ্য সরকার। কন্যাশ্রী প্রকল্প ২০২৬-এর আওতায়ও যোগ্য ছাত্রীরা K1 ও K2-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে সুবিধা পেতে বয়স, পড়াশোনা, বৈবাহিক অবস্থা-সহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া এবং অল্প বয়সে বিয়ে রোধ করার লক্ষ্যে চালু হয়েছিল কন্যাশ্রী প্রকল্প। ২০২৬ সালেও এই প্রকল্প রাজ্যের অন্যতম বড় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি।
সরকারি কন্যাশ্রী পোর্টাল অনুযায়ী, প্রকল্পটির মূল কাঠামোয় দুটি আর্থিক সুবিধা রয়েছে—K1 Annual Scholarship এবং K2 One-Time Grant। K1 মূলত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের জন্য, আর K2 দেওয়া হয় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ছাত্রীদের।
কন্যাশ্রী প্রকল্প ২০২৬ এক নজরে
কন্যাশ্রী K1 কী? বছরে কত টাকা পাওয়া যায়?
K1 হল বার্ষিক আর্থিক সহায়তা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি অবিবাহিত ছাত্রী, যে অষ্টম শ্রেণি বা তার উপরে পড়াশোনা করছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বছরে ₹১,০০০ পেতে পারে।
শুধু সাধারণ স্কুলশিক্ষাই নয়, সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি এই বয়সের জন্য স্বীকৃত বৃত্তিমূলক, কারিগরি এবং ক্রীড়া সংক্রান্ত শিক্ষাক্রমও এর আওতায় আসতে পারে।
K1-এর সুবিধা চালু রাখতে ছাত্রীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর renewal করতে হয়।
কন্যাশ্রী K2 কী? ₹২৫,০০০ কারা পাবেন?
K2 হল এককালীন আর্থিক অনুদান।
কোনও ছাত্রী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছনোর পরও যদি অবিবাহিত থাকেন এবং পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ₹২৫,০০০ এককালীন অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারেন।
সরকারি FAQ অনুযায়ী K2-এর বয়সসীমা ১৮ থেকে ১৯ বছর।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—K1 পাওয়া মানেই K2-এর ₹২৫,০০০ স্বয়ংক্রিয় ভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে না। যোগ্য ছাত্রীকে K2-এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হয়। সরকারি প্রশিক্ষণ নির্দেশিকাতেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
K1 বনাম K2
কন্যাশ্রী প্রকল্প ২০২৬-এ কারা আবেদন করতে পারবেন?
কন্যাশ্রীর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে।
আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে এবং রাজ্য স্বীকৃত কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। সাধারণ নিয়মে তাঁকে অবিবাহিত হতে হবে।
K1-এর ক্ষেত্রে বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে এবং সাধারণ ভাবে Class VIII বা তার উপরে পড়াশোনা করতে হয়।
K2-এর ক্ষেত্রে ছাত্রীকে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছনোর পরও অবিবাহিত এবং শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।
বিশেষ ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, অনাথ এবং Juvenile Justice Home-এ থাকা মেয়েদের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ শর্তে ছাড় রয়েছে।
সরকারি শিক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই শ্রেণিগুলির ক্ষেত্রে income criterion মকুব করা হয়েছে। ৪০ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী অষ্টম শ্রেণির নীচে পড়লেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ষিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারে।
আপনি কোনটির জন্য যোগ্য?
কন্যাশ্রী আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগে?
সরকারি FAQ-তে আবেদনের জন্য কয়েকটি supporting document-এর উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
বাবা-মা বা আইনি অভিভাবকের Voter ID-এর প্রতিলিপি
উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া Birth Certificate
আবেদনকারীর বৈবাহিক অবস্থার declaration
আবেদনকারীর নিজের bank passbook-এর সংশ্লিষ্ট পাতার প্রতিলিপি
Passport-size photograph
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Disability Certificate
১৮ বছরের কম বয়স হলে বৈবাহিক অবস্থার declaration বাবা-মা বা আইনি অভিভাবক দেন। ১৮ বছর পেরিয়ে গেলে আবেদনকারী নিজে declaration দিতে পারেন।
কন্যাশ্রী প্রকল্পে কী ভাবে আবেদন করবেন?
K1 এবং K2-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সাধারণ ভাবে যোগ্য ছাত্রী নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন।
সরকারি FAQ অনুযায়ী, eligible girls-কে তাঁদের institution-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
তাই কোনও অজানা বেসরকারি website-এ গিয়ে “Kanyashree Apply Online” দেখে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।
আবেদন থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত
সরকারি FAQ অনুযায়ী, Block হল verifying authority এবং District স্তরে sanction ও disbursement করা হয়। সুবিধার টাকা সরাসরি উপভোক্তার bank account-এ যায়।
নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা কি জরুরি?
হ্যাঁ। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারী ছাত্রীর নিজের নামে bank account থাকা প্রয়োজন।
কারণ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
তাই account number, beneficiary name এবং প্রয়োজনীয় banking details ঠিক আছে কি না আবেদন করার সময় ভাল ভাবে পরীক্ষা করা উচিত।
K1 থেকে K2 কি নিজে থেকেই হয়ে যায়?
না।
এই জায়গাতেই অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে।
কোনও ছাত্রী K1-এর সুবিধা পেলেও ১৮ বছর বয়স হওয়ার পরে K2-এর জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। পুরনো সরকারি training guide-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে, K1-এ enrolled থাকলেও K2 grant-এর জন্য আলাদা K2 form প্রয়োজন।
কন্যাশ্রী K3 কী?
K1 ও K2-এর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে K3-ও রয়েছে।
West Bengal State Council of Higher Education-এর তথ্য অনুযায়ী, K3 স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করা ছাত্রীদের জন্য। K2-তে registered ছাত্রী K3-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। K3-এর ক্ষেত্রে undergraduate degree-তে অন্তত 45% marks এবং postgraduate course-এ admission-এর শর্ত উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমান SVMCM portal-এ K3 applicants-এর জন্য K2 authentication-এর ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে K3-র application process K1/K2 থেকে আলাদা হওয়ায় Updated+ এটিকে নিয়ে পৃথক বিস্তারিত গাইড করতে পারে।
কন্যাশ্রী আবেদন বা টাকা আটকে গেলে কী করবেন?
প্রথমে নিজের স্কুল, কলেজ বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের Kanyashree nodal person-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
Application details, Kanyashree ID এবং bank information ঠিক রয়েছে কি না যাচাই করুন।
পুরনো portal-এর current notice অনুযায়ী, K2-সংক্রান্ত modules ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন admin-kanyashree.wb.gov.in portal-এ migration করা হয়েছিল। তাই পুরনো bookmark বা unofficial link ব্যবহার না করে বর্তমান সরকারি Kanyashree portal থেকেই তথ্য যাচাই করা উচিত।
কন্যাশ্রী ২০২৬: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
K1-এ কত টাকা পাওয়া যায়?
K1-এর অধীনে যোগ্য ছাত্রী বছরে ₹১,০০০ আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
K2-তে কত টাকা পাওয়া যায়?
K2-এর অধীনে যোগ্য ছাত্রীকে এককালীন ₹২৫,০০০ দেওয়া হয়।
K1-এর বয়স কত?
সাধারণ নিয়মে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি, Class VIII বা তার উপরে পড়াশোনা করা অবিবাহিত ছাত্রী K1-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন।
K2 কখন পাওয়া যায়?
১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে, সাধারণ ভাবে ১৮–১৯ বছর বয়সের মধ্যে, অবিবাহিত অবস্থায় পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকলে K2-এর জন্য আবেদন করা যায়।
বিয়ে হয়ে গেলে কন্যাশ্রী পাওয়া যাবে?
K1 ও K2-এর মূল eligibility-র মধ্যে অবিবাহিত থাকা অন্যতম শর্ত।
K1 পেলেই কি K2 পাওয়া যাবে?
না। K2-এর জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন ও verification process সম্পূর্ণ করতে হবে।
কোথা থেকে আবেদন করবেন?
যোগ্য ছাত্রীকে সাধারণ ভাবে নিজের school/college/educational institution-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।
সম্পাদকীয় নোট
এই প্রতিবেদনটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Kanyashree portal, Directorate of Social Welfare, Banglar Shiksha এবং West Bengal State Council of Higher Education-এর উপলব্ধ সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। প্রকল্পের নিয়ম, আবেদন প্রক্রিয়া বা সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে বর্তমান সরকারি নির্দেশিকা এবং নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করুন।
Also Read:
















































