Kolkata Durga Puja UNESCO: কলকাতার দুর্গাপুজো কেন পেল বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি?
- 2 days ago
- 4 min read

শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়। কয়েক দিনের জন্য গোটা কলকাতা যেন হয়ে ওঠে বিশাল এক open-air art gallery। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী থেকে প্যান্ডেলের শিল্পী, আলোকশিল্পী, ঢাকি, পুরোহিত, পুজো কমিটি—অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত সৃষ্টির মধ্য দিয়েই তৈরি হয় কলকাতার দুর্গাপুজোর নিজস্ব পরিচয়।
Kolkata Durga Puja UNESCO স্বীকৃতির পিছনেও রয়েছে এই বহুমাত্রিক সংস্কৃতি। ২০২১ সালে UNESCO আনুষ্ঠানিক ভাবে “Durga Puja in Kolkata”-কে Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity-এ অন্তর্ভুক্ত করে। UNESCO দুর্গাপুজোকে ধর্ম, শিল্প, কারুশিল্প, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং নগরজীবনের এক অসাধারণ সম্মিলিত প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
কিন্তু UNESCO ঠিক কী স্বীকৃতি দিয়েছে? কেন কলকাতার দুর্গাপুজো এত বিশেষ? এবং এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর কী বদলেছে?

Kolkata Durga Puja UNESCO: ঠিক কী স্বীকৃতি পেয়েছে?
প্রথমেই একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
কলকাতার দুর্গাপুজো UNESCO World Heritage Site নয়।
UNESCO-র Intergovernmental Committee ২০২১ সালের ডিসেম্বরে “Durga Puja in Kolkata”-কে Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity-এ অন্তর্ভুক্ত করে।
এটি কোনও নির্দিষ্ট মন্দির, প্যান্ডেল বা স্থাপত্যের স্বীকৃতি নয়। বরং দুর্গাপুজোকে ঘিরে গড়ে ওঠা জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, শিল্প, আচার, দক্ষতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণের স্বীকৃতি।
কেন UNESCO-র নজরে কলকাতার দুর্গাপুজো?
UNESCO-র ব্যাখ্যায় কলকাতার দুর্গাপুজোর বিশেষত্ব কয়েকটি স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে।
উৎসবের কয়েক মাস আগে থেকেই ছোট-বড় কারিগরি কর্মশালায় দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের মাটির প্রতিমা তৈরি শুরু হয়। ঐতিহ্যগত ভাবে গঙ্গার মাটি ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরির প্রক্রিয়াও এই সাংস্কৃতিক ধারার অংশ।
তারপর আসে মণ্ডপ।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় বিশাল temporary installations বা pavilion। কোথাও ঐতিহ্য, কোথাও সমকালীন সামাজিক বিষয়, কোথাও স্থাপত্য কিংবা পরীক্ষামূলক শিল্প—প্রতি বছরই প্যান্ডেলের ভাষা বদলায়।
এর সঙ্গে যোগ হয় ঢাক, আলোকসজ্জা, প্রতিমা, আচার এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণ।
UNESCO কলকাতার দুর্গাপুজোকে public performance of religion and art-এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এবং collaborative artists ও designers-এর জন্য এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কুমোরটুলি থেকে মণ্ডপ—এক বিশাল Creative Ecosystem
কলকাতার দুর্গাপুজোর অন্যতম শক্তি হল এর creative ecosystem।
একটি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে শুধু পুজো কমিটি থাকে না। প্রতিমাশিল্পী, কাঠমিস্ত্রি, বাঁশের কারিগর, painter, illustrator, sculptor, lighting designer, architect, theme designer, electrician, ঢাকি—বহু ধরনের দক্ষ মানুষ যুক্ত থাকেন।
UNESCO-র সিদ্ধান্তেও families, Puja committees, priests, drummers, artists এবং craftspersons-কে এই ঐতিহ্যের ধারক ও practitioner হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তাই দুর্গাপুজো একই সঙ্গে religious festival এবং temporary public-art ecosystem।

কুমোরটুলির ভূমিকা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কলকাতার দুর্গাপুজোর কথা কুমোরটুলিকে বাদ দিয়ে বলা সম্ভব নয়।
উত্তর কলকাতার এই ঐতিহাসিক পটুয়াপাড়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রতিমাশিল্পীরা দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের প্রতিমা তৈরি করছেন।
খড়ের কাঠামো, মাটি, রং এবং সাজসজ্জার বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে একটি প্রতিমা তৈরি হয়।
UNESCO-র documentation-এও প্রতিমা নির্মাণকে দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ধর্মীয় উৎসব কীভাবে হয়ে উঠল Public Art Festival?
এটাই সম্ভবত কলকাতার দুর্গাপুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
ঐতিহ্যবাহী পুজোর পাশাপাশি গত কয়েক দশকে theme puja কলকাতার উৎসবকে নতুন visual language দিয়েছে।
একটি প্যান্ডেল কখনও কোনও গ্রামের স্থাপত্যকে তুলে ধরে, কখনও পরিবেশ সংকট, কখনও ইতিহাস, কখনও লোকশিল্প, আবার কখনও সম্পূর্ণ abstract installation হয়ে ওঠে।
ফলে দর্শক শুধু দেবী দর্শনের জন্য প্যান্ডেলে যান না।
তাঁরা art experience-এর অংশ হয়ে ওঠেন।
UNESCO-র ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে কলকাতার দুর্গাপুজোকে এমন একটি living heritage হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে প্রতি বছর শহরটি installations, clay sculptures এবং collaborative design-এর এক ধরনের open-air gallery-তে রূপ নেয়।
দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় শক্তি—মানুষের অংশগ্রহণ
UNESCO-র স্বীকৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল community participation।
দুর্গাপুজোর সময় প্যান্ডেল দর্শনে ধর্ম, শ্রেণি বা সামাজিক পরিচয়ের সীমানা অনেকটাই ঝাপসা হয়ে যায়—UNESCO-র inscription description-এ এই সামাজিক অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
UNESCO Committee আরও বিশেষ ভাবে প্রশংসা করেছিল marginalized groups এবং women-কে heritage safeguarding-এর কাজে যুক্ত করার উদ্যোগের।
এই কারণেই দুর্গাপুজো শুধু অতীত থেকে পাওয়া tradition নয়।
এটি এমন একটি tradition, যা প্রতি বছর মানুষ নতুন করে তৈরি করেন।
UNESCO স্বীকৃতির পর কী বদলেছে?
UNESCO inscription-এর অর্থ এই নয় যে কোনও উৎসবকে শুধু একটি international label দেওয়া হল।
এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল safeguarding—অর্থাৎ জীবন্ত ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা।
ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক জানিয়েছে, দুর্গাপুজোর rituals, customs ও traditions documentation এবং preservation-এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। Artisans ও craftspeople-এর জন্য capacity-building programme এবং workshop-ও হয়েছে।
এর পাশাপাশি একটি নতুন বিষয় সামনে এসেছে—accessibility।
২০২৫ সালে UN India ও UNESCO পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল আরও accessible করার জন্য Standard Operating Procedures চালু করে। ২০২৫-এর pilot project-এ কলকাতার ২৪টি প্যান্ডেলে ramps, clear pathways, resting areas, accessible toilets এবং অন্যান্য ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। UNESCO ২০২৬ সালের জুনে এই উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
২০২৬-এ নতুন গুরুত্ব—Accessible Durga Puja
এই অংশটি article-টিকে সাধারণ evergreen explainer-এর চেয়ে বেশি current করবে।
UNESCO-র জুন ২০২৬ update অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর accessibility initiative-এর লক্ষ্য হল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রবীণ এবং অন্য যাঁদের public festival-এ অংশ নিতে বাধার মুখে পড়তে হয়, তাঁদের জন্য আরও inclusive environment তৈরি করা।
Pilot pandal-গুলিতে temporary ramps, accessible toilets, clear pathways, resting areas, trained volunteers, baby-feeding spaces এবং calm zones-এর মতো ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
অর্থাৎ UNESCO heritage হওয়ার পাঁচ বছর পর আলোচনার কেন্দ্র শুধু দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক পরিচিতি নয়।
প্রশ্ন এখন
এই living heritage-কে কীভাবে আরও inclusive, sustainable এবং accessible করা যায়?
UNESCO স্বীকৃতি কি কলকাতার পর্যটনেও গুরুত্বপূর্ণ?
নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, UNESCO inscription কলকাতার দুর্গাপুজোকে একটি আন্তর্জাতিক cultural identity দিয়েছে।
তবে শুধু UNESCO recognition-এর কারণে কত পর্যটক বেড়েছে—এমন নির্দিষ্ট সংখ্যা authoritative data ছাড়া দাবি করা উচিত নয়।
যেটা বলা যায়, কলকাতার দুর্গাপুজো এখন UNESCO-র আন্তর্জাতিক Intangible Cultural Heritage তালিকায় ভারতের একটি officially recognised cultural tradition। ফলে international cultural tourism-এর ক্ষেত্রে এর visibility স্বাভাবিক ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।
World Heritage আর Intangible Heritage-এর পার্থক্য কী?
কলকাতার দুর্গাপুজো কেন সত্যিই ‘Living Heritage’?
UNESCO recognition-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সম্ভবত living।
কারণ দুর্গাপুজো কোনও museum-এর ভিতরে সংরক্ষিত tradition নয়।
প্রতি বছর নতুন প্রতিমা তৈরি হয়। নতুন প্যান্ডেল তৈরি হয়। শিল্পীরা নতুন ভাষা খুঁজে পান। পুরনো আচার পালিত হয়, আবার প্রযুক্তি ও contemporary design উৎসবকে নতুন রূপ দেয়।
একই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই প্রক্রিয়ার দর্শক নন—তাঁরাও অংশগ্রহণকারী।
এই পরিবর্তনশীল অথচ ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক চরিত্রই কলকাতার দুর্গাপুজোকে আলাদা করে।
২০২১-এর UNESCO স্বীকৃতি তাই শুধু একটি উৎসবের international recognition নয়।
এটি কলকাতার শিল্পী, কারিগর, ঢাকি, পুজো কমিটি এবং সাধারণ মানুষের তৈরি একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক ecosystem-এর স্বীকৃতি।
Read More:






Comments